Pages

▼

Friday, December 27, 2019

সালাফীদের ভ্রান্ত আকিদার জবাবঃ নবুওয়্যত পাবার পূর্বে কি নবী করীম (ﷺ) এর কোনো মর্যাদা ছিল না?


নবুওয়্যত পাবার পূর্বে কি নবী করীম (ﷺ) এর কোনো মর্যাদা ছিল না? (নাঊযুবিল্লাহ)

.
আস্তাগফিরুল্লাহ। এমন শিরোনাম দিতে বাধ্য হলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে কিছু মানুষ! আহ! এর চাইতে আফসোসের কোনো কথা হতে পারে?
.
কথিত আহলে হাদীস আলেম নামে জাহেল মুযাফফর বিন মুহসিন সাহেব এমন জঘন্য কথা বলার অপসাহস দেখিয়েছেন। তিনি নিজেকে আহলে হাদীস বলে দাবি করেন! অথচ তিনি হাদীস জানেন না। হাদীস সম্পর্কে অজ্ঞ, গণ্ডমূর্খ এক লোক তিনি।
.
আরে এমন প্রশ্ন উঠবে সেটা আল্লাহ তাআলা অবশ্যই অবগত ছিলেন। তাই ত তিনি তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দ্বারা বহুত সুন্দর জবাব দিয়ে দিয়েছেন।
.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হলো, ‘‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি নবী হবেন এটি কখন থেকে নির্ধারিত?’'
.
রাসূলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিলেন, ‘‘আদম আলাইহুস সালাম যখন রূহ এবং দেহের মাঝে পৃথক ছিলেন তখন থেকে।’’
.
.
এই হাদীসটি অনেক অনেক সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। ৩ জন সাহাবী থেকে হাদীসটি বর্ণিত। ১. মাইসারাতুল ফজর (রা.), ২. আবূ হুরায়রা (রা.) এবং ৩. ইবনে আব্বাস (রা.)।
.
আমি শুধু দুইজন সাহাবীর বর্ণনা উল্লেখ করছি,
.
হাদীস:
.
عَنْ مَيْسَرَةَ الْفَجْرِ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، مَتَى كُتِبْتَ نَبِيًّا؟ قَالَ: " وآدَمُ بَيْنَ الرُّوحِ وَالْجَسَدِِ
.
অর্থাৎ মাইসারাতুল ফজর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে প্রশ্ন করলাম, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! কখন থেকে আপনি নবী হিসেবে নির্ধারিত?’ তিনি বললেন, ‘‘আদম (আ.) যখন রূহ এবং দেহের মাঝে (পৃথক) ছিলেন।’’
.
[মুসনাদে আহমাদ, খণ্ড ৩৪, পৃ. ২০২, হা. ২০৫৯৬; মুসতাদরাকে হাকেম, ২য় খণ্ড, পৃ. ৬৬৫, হা. ৪২০৯; আল মু’জামুল কাবীর, তাবারানী; মাজমাউয যাওয়াইদ, হা. ১৩৮৪৮; শরহু মুশকিলিল আছার, তাহাবী, খণ্ড ১৫, পৃ. ২৩১, হা. ৫৯৭৬; আস সুন্নাহ, ইবনে আবী আসেম, হা. ৪১০; উসদুল গাবাহ, ৫/২৮৫; মু’জামুশ শুয়ূখ, যাহাবী, ২/১৩]
.
আরও বিভিন্ন কিতাবে বিভিন্ন সনদে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। এখানে শুধু এই কয়েকটিই উল্লেখ করলাম। এর সনদ সহীহ। কোনো একজন মুহাদ্দিসেরও এ ব্যাপারে আপত্তি নেই।
.
ইমাম হাকেম (রহ.) হাদীসটির সনদকে ‘সহীহ’ বলেছেন। ইমাম যাহাবী (রহ.)ও সহীহ বলেছেন।
.
ইমাম নূরুদ্দীন হায়ছামী (রহ.) তাঁর মাজমাউয যাওয়াইদে ‘সহীহ’ বলেছেন।
.
ﺭَﻭَﺍﻩُ ﺃَﺣْﻤَﺪُ ﻭَﺍﻟﻄَّﺒَﺮَﺍﻧِﻲُّ، ﻭَﺭِﺟَﺎﻟُﻪُ ﺭِﺟَﺎﻝُ ﺍﻟﺼَّﺤِﻴﺢ
.
শায়েখ শুআইব আরনাউত্ব (রহ.) মুসনাদে আহমাদের তাহকীক, তাখরীজ করেছেন। তা’লীকে এটিকে সহীহ বলেছেন।
.
শায়েখ নাসীরুদ্দীন আলবানী (রহ.)ও এটিকে সহীহ বলেছেন।
.
[সিলসিলাতুল আহাদীস আস সহীহাহ, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৪৭১, হা. ১৮৫৬]
.
.
আবূ হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত:
.
ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ، ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻣَﺘَﻰ ﻭَﺟَﺒَﺖْ ﻟَﻚَ ﺍﻟﻨُّﺒُﻮَّﺓُ؟ ﻗَﺎﻝَ : ‏« ﻭَﺁﺩَﻡُ ﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟﺮُّﻭﺡِ ﻭَﺍﻟﺠَﺴَﺪ
.
অর্থাৎ আবূ হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! কখন থেকে আপনার নবুওয়্যত নির্ধারিত?’ তিনি বললেন, ‘‘যখন আদম (আ.) রূহ এবং শরীরের মাঝে (পৃথক) ছিলেন।’'
.
[তিরমিযী, হা. ৩৬০৯]
.
এটির সনদ ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।
.
শায়েখ নাসীরুদ্দীন আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন।
.
[সহীহ-যয়ীফ সুনানে তিরমিযী, হা. ৩৬০৯]
.
.
মজবুত দলীল দ্বারা প্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়্যত তখন থেকে নির্ধারিত যখন হজরত আদম আলাইহিস সালাম রূহ এবং দেহের মাঝে ছিলেন।
.
সুতরাং নবুওয়্যত পাবার পূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা ছিল না (নাঊযুবিল্লাহ), এমন কথা স্পষ্ট কুফরী কথা।
.
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘‘(হে নবী) আমি আপনার আলোচনাকে সুউচ্চ করেছি।’' [সূরায়ে ইনশিরাহ]
.
সুতরাং কেউ চাইলেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যাপারে মনগড়া কথা বলে পাড় পেয়ে যেতে পারবে না।
.
আল্লাহ তাআলা আমাদের লা-মাযহাবী নামক গোমরাহ  ফেরকার গোমরাহী থেকে হেফাজত করুন। আমীন। ছুম্মা আমীন।



No comments:

Post a Comment